আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাছেমুল উলূম চারিয়া, ফোন: ০১৮১৯-৩৩৩৯৮৯, ০১৮১৯-৩৭০৭১০ ।

আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাছেমুল উলূম চারিয়ার
পরিচিতি ও কর্মধারা

নাহমাদুহু ওয়া নুছাল্লিা আলা রাসূলিহিল করীম............
এই বিশ্ব ধরায় কেউই ইল্ম নামক মহামূল্যবান বস্তুটি নিয়ে জন্মায় না। নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই তা অর্জন করতে হয়। তবেই হওয়া যায় ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র সর্বপরি ইহকাল-পরকাল সর্ব ক্ষেত্রে সাফল্যমন্ডিত। দুনিয়ার সর্ব ক্ষেত্রে এই জ্ঞানের মূল্য অপরিসীম। এই শিক্ষার বলেই জাতির উচ্চ-নিম্নের তারতম্য করা হয় এবং বলা হয় “শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। সুতরাং মানবতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে জ্ঞানের বিকল্প নাই।
দুনিয়াতে সবাই চায় আমি সুখী হই, শান্তিতে থাকি, সর্ব ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করি। কিন্তু কোথায় মিলবে এই সুখ, শান্তি, সফলতা- এ সম্পর্কে আমরা অনেকেই অজ্ঞ।
বিজ্ঞান আবিস্কিৃত যত জ্ঞান আছে সবই চালাতে হয় আবিষ্কারকের থিউরি বা তথ্য অনুসারে। যেমন একটা সাধরণ মোবাইল চালাতেও দেয়া হয় “ইউজার মেনুয়াল নোট বুক” যাতে সব রকম ব্যবহার বিধি লেখা আছে। মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে সৃষ্টি করে দিয়েছেন তেমন একটি মহাগ্রন্থ “আল কুরআন”। মানব রচিত নোট বুকে ভুল হতে পারে কিন্তু সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক দেয়া মহাগ্রন্থে বিন্দু পরিমাণও ভুলের আশংকা নাই। আর এই মহাগ্রন্থ আল কুরআন যাঁর মাধ্যমে দিলেন তিনিও এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব তাঁর আগে ও পরে এই বিশ^ ভূবনে তাঁর উদাহরণ আর নাই। তাঁর প্রত্যেকটি কথা ও কাজ আমাদের জন্য বিধি নিষেধে পরিণত হয়েছে।
সুতরাং সেই সুখ-শান্তি তথা ইহকার ও পরকালের সফলতা তাঁর দেয়া মহাগ্রন্থ আল কুরআন ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অুনসরণের মধ্যে রয়েছে। কুরআন-হাদীসের জ্ঞানই একমাত্র জ্ঞান যা পারে একজন সুনাগরিক উপহার দিতে, একটি সুশীল সমাজ গড়তে এবং পারে বিশ্বকে সমৃদ্ধির উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে।
১৮৫৭ সালের সিপাহী জনতার স্বাধীনতা আন্দোলন আপাত দৃষ্টিতে ব্যর্থ হওয়ার পর উপমহাদেশের উপর বৃটিশ স¤্রাজ্যবাদীরা তাদের দখলকে আরো সুসংহত করে নেয়। নেমে আসে নেতৃত্বদানকারী মুসলিম নেতা এবং উলামায়ে কেরামের উপর নির্যাতনের স্টিমরোলার। এতে পুরো দেশ নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যায়। চট্টগ্রাম হতে খায়বার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাংক রোডের দু’পাশের প্রতিটি বৃক্ষাশাখাতে ঝুলানো হয় শহীদের লাশ। ইংরেজ বেনিয়া গোষ্ঠি মুসলমাদের ধর্মীয় চেতনাকে খতম করে দেওয়ার জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে বন্ধ করে দেয়। এহেন অবস্থায় চরম হতাশায় মূহ্যমান হয়ে পড়ে ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতা।
এমন দূর্যোগময় মূহূর্তে এগিয়ে আসেন ঈমানী চেতনায় উজ্ঝীবিত উম্মতের চিন্তায় দগ্ধ হৃদয়ের অধিকারী, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা কাসিম নানুতুবী (রহ:) ও তাঁর সহ যোদ্ধারা। পৃথিবীর সমগ্র পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, আন্তার্জতিক ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র ও আক্রমণ সমূহের পূর্বাপর পর্যালোচনা করে নববী তালীম ও শিক্ষার আলোকে ইসলামী পুনঃজাগরণ এবং সংস্কারের এক সার্বিক ও কার্যকরি কর্মসূচী গ্রহণ করলেন তাঁরা। এরই প্রেক্ষিতে ১৮৬৭ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক এক ইসলামী প্রতিষ্ঠান। যার নাম দারুল উলূম দেওবন্দ। মুক্তিকামি মানুষের এমন কোন ডাক নেই এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে নেতৃত্বের উজ্জল স্বাক্ষর রাখেনি এই দারুল উলূম দেওবন্দ। এটা ঘটা করে স্থাপিত কোন প্রতিষ্ঠান নয়। বরং এ জাতীয় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা তৎকালীন বুযুর্গানেদ্বীনের অনেকেরই কাশ্ফ ছিল। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, বর্তমানে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া দ্বীনের হেফাজত সম্ভব নয়। তাই তাঁরা বিপুল পরিমাণে এ জাতীয় প্রতষ্ঠিান গড়ে তোলার চিন্তা অব্যাহত রাখেন।
এরই ফলশ্রুতিতে দারুল উলূম দেওবন্দের ফারিগ (উত্তীর্ণ) পরে দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শুরার সদস্য আল্লামা সাঈদ আহমদ (রহঃ) ১৯৪৩ সনে বাংলার জমিনে প্রতিষ্ঠা করেন আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাসেমুল উলূম চারিয়া।

জামিয়ার অবস্থান :
বন্দর নগরী চট্টগ্রাম হতে ২২ কি. মি. উত্তরে নাজিরহাট রোড সংলগ্ন চারিয়া গ্রামে অবস্থিত।

প্রতিষ্ঠাতা :
বাংলার প্রথম মুহাদ্দিস আল্লামা সাঈদ আহমদ (রাহঃ) স্বপ্নযোগে দেখলেন যে, তিনি এমন একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন যার পূর্ব দিকে একটি দিঘী আছে এবং মাদ্রাসার ছাত্ররা সেখানে সাঁতার কাটছে, তিনি তাঁর এই ইলহামী স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেন ১৯৪৩ইং সনে অত্র মাদ্রাসার ভিত্তি স্থাপন করার মাধমে। যা শুরু হয় দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) হতেই।

মতাদর্শ :
“ما أنا عليه وأصحابي যে পথে আছি আমি ও আমার সাহাবীগন” এরই বাস্তব নমুনা হল অত্র জামিয়া।অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকীদায় পূর্ণ বিশ^াসী।

লক্ষ উদ্দেশ্য :
আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কুরআন সুন্নাহ শিক্ষার পাশাপাশি যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে ছহীহ আক্বীদা ও ইসলামী সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে সমাজ হতে সর্বপ্রকার জুলুম অত্যাচার দূরীকরণ এবং আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করাই এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
জামিয়ার কর্যক্রম :
আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাছেমুল উলূম এর শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা অনেকটা ব্যতিক্রম, এর সূচনা হয় দাওরায়ে হাদীস হতে। পরে ক্রমান্নয়ে অন্যান্য বিভাগ সমূহ খোলা হয়।
বর্তমান শিক্ষাধারা শিশু শ্রেণী (নূরানী) হতে সর্বোচ্চ দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) পর্যন্ত উন্নত শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে কুরআন, হাদীস, তাফসির, ফিকাহ, আরবী সাহিত্য বাংলা সাহিত্য মুতাফারিরকা (শটকোর্চ) হিফজুল কুরআন ইত্যাদি শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি ছাত্রদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে।

নূরানী বিভাগ :
প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুয়াল্লিমের মাধ্যমে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে তাজবীদসহ শুদ্ধভাবে কুরআন মাজীদ শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েল ও আমল আখলাক শিক্ষা দেয়া হয়। যাতে করে এ বিভাগ হতে উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থী জেনারেল শিক্ষার দিকে ধাবিত হলেও এ শিক্ষা তার জীবনের মূল ভিত্তি হয়ে থাকতে পারে।

হিফ্জ বিভাগ :
এ বিভাগে দক্ষ হাফিজে কুরআনের দ্বারা হিফ্জ ইচ্ছুক ছাত্রদেরকে তিন থেকে চার বছরে সম্পূর্ণ কুরআন শুদ্ধরূপে হিফ্জ করানো হয়। এবং হিফ্জ সমাপনকারী ছাত্রদের জন্য মুতাফারিরকা (শটকোর্চ) এর ব্যবস্থা রয়েছে।

কিতাব বিভাগ :
এটা জামিয়ার পূর্ণাঙ্গ ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। মক্তব বা হিফ্জ সমাপনকারী ছাত্রদেরকে মাত্র ১০ বছরে কুরআন, হাদীস, ফিকাহ, তাফসির, আকাঈদ, উসূল, আরবী সাহিত্য, বালাগাত, আরবী ব্যাকরণ ও যুক্তিবিদ্যাসহ ধর্মীয় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারদর্শী করে বিজ্ঞ আলেম হিসেবে গড়ে তোলা হয়। বেফাকুল মাদারিসে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদেরকে বেফাক হতে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
মহিলা বিভাগ :
এরাব সব Give me a good mother, I shall give you a good nation. “আমায় একটি ভাল (আদর্শ) মা দাও, আমি তোমায় একটি আদর্শ জাতি দেবো”
একজন মা-ই দিতে পারে একটি শিক্ষিত সমাজ উপহার। জাতির এই প্রয়োজনীয়তার দিকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান মাদরাসা পরিচালনা পরিষদ অত্র জামিয়ার নিকটেই নিরিবিলি পরিবেশে একটি মহিলা বিভাগ চালু করা হয়। বর্তমান এতে শিশু শ্রেণী হতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত কার্যক্রম চালু আছে যা ক্রমন্বয়ে দাওরা হাদীস পর্যন্ত চালু করা হবে ইনশা আল্লাহ।

দেয়ালিকা :
আদিকাল হতেই সত্য মিথ্যার লাড়াই অস্ত্র, বক্তৃতা ও লেখনী দ্বারা চলছে। লিখিত আকারে বাতিলের জবাব দেয়ার জন্য ছাত্রদের পক্ষ হতে প্রবন্ধ, ছোট গল্প ও কবিতা লিখে “আস সাঈদ” নামে একটি বাংলা ও আরবী দেয়ালিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

দাওয়াত ও তাবলীগ :
একজন শিক্ষকের তত্ত্ববধানে ছাত্রদেরকে পালাক্রমে সপ্তাতের প্রত্যেক বৃহস্পতিবার আছরের পর হতে ২৪ ঘন্টার জন্য মাদ্রাসার পার্শ¦বর্তী বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। উক্ত কাজে ছাত্ররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সর্বদা অংশগ্রহণ করে আসছে।

কুতুবখানা :
জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম সমূহের মধ্যে কিতাব একটা অপরিহর্য মাধ্যম। আর যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্যই কুতুবখানার গুরুত্ব অপরিসীম। অত্র জামিয়ার ছাত্রদেরকে পাঠদানের পূর্বে শিক্ষকগণ সিলেবাসভূক্ত কিতাবাদী তার ভাষ্যগ্রন্থ ও সহযোগী পুস্তিকাদী গভীর মনোনিবেশ সহকারে অধ্যায়ণ করে থাকেন। অপরদিকে ছাত্রদেরকেও পাঠ্যপুস্তক শিক্ষা বছরের সমপ্তি পর্যন্ত সময়ের জন্য জামিয়ার পক্ষ থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

কম্পিউটার বিভাগ :
বর্তমানে বিশ্বে কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা গেলেও, বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে এর ব্যবহার এখনো সীমিত। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিষয়টি নামে মাত্র ১টি পৃথক বিষয় হিসেবে যোগ করা হলেও সেখানে তাত্ত্বিক জ্ঞানই দেয়া হয় বেশি। ফলে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটারের ব্যবহার সম্পর্কে তেমন কিছুই শিখে না। অত্র মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরকে আধুনিক জ্ঞান সম্পর্কে সচেতন করতে মাদ্রসার অভ্যন্তরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য বিশাল ল্যাব গড়ে তোলা হয়েছে।

লিল্লাহ বোর্ডিং :
ধনী ও বিত্তবানদের সন্তানদের সাথে সাথে সমাজের ইয়াতীম মিসকীন ও দরিদ্র ছাত্ররাও যেন দ্বীনি শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়, সে জন্য লিল্লাহ বোর্ডিং হতে তাদের জন্য থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

ছদকায়ে জারিয়া

ছদকায়ে জারিয়ার বিশাল সুয়োগ জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম চারিয়া মাদ্ররাসা চারিয়া কেন্দ্রিয় জামে মসজিদের ২য় তলার

একাউন্ট নং

নাম: আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাসেমুল চারিয়া ইসলাম ব্যাংক, হাটহাজারি ব্রাঞ্চ, ২০৫০১৭০০২০১০৫৭১১০

বার্ষিক মাহফিল

06 জানুয়ারী-2018 খ্রীস্টাব্দ রোজ শনিবার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম চারিয়া এর বার্ষিক মাহফিল

ভর্তি ফরম

ভর্তি ফরম ডাউনলোড করুন এখান থেকে । এবং ভর্তি সম্পর্কে আর জানতে নিছে ক্লিক করুন।

নোটিশ বোর্ড

সকল ছাত্র/ছাত্রীদের জানানো যাতেছে যে সকলের পাসফোট সাইজের এক কপি ছবি প্রতিষ্টনের প্রধানের নিকট জমা দেয়ার জন্য।

পরীক্ষার নং জমাতে হাপ্তুম - মোতাফাররেকা

সর্বোচ্চ সেবার মান নিশ্চিত করতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রযু্ক্তির ব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনা করে ওয়েব সাইট খুলেছে

আমাদের সাথে যোগাযোগ

আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কাছেমুল উলূম চারিয়া, পো: চারিয়া মাদ্রাসা, থানা: হাটহাজারী, চট্রগ্রাম, বাংলাদেশ।

আমাদের ছবি গ্যালারি